• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
ব্রেকিং নিউজঃ
চুয়াডাঙ্গার জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল “চুয়াডাঙ্গা টাইমস্ ডট কম” এর জন্য সংবাদকর্মী আবশ্যক। দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে আমাদেরকে সংবাদ পাঠাতে পারেন। আগ্রহীরা সদ্য তোলা ২কপি ছবি সহ জীবনবৃত্তান্ত পাঠান ইমেইলে। ইমেইল: [email protected] যোগাযোগ করতে পারেন মুঠোফোনেঃ ০১৭১৩-৯১৭৭২১,০১৮৩৮-৮০৬১৮০

“সাহিত্য সমাজের দর্পন” ~ কমল উদ্দিন …..

Logo
চুয়াডাঙ্গা টাইমস্ ডেস্ক / ৭৮ বার দেখা
প্রকাশিত সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

লেখক কিংবা কবি কোনো ব্যক্তির না, নিজেরও না, সর্বজনীন। একজন সাহিত্যিককে জাতির চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে উপস্থাপন করতে হয়। এটা করতে না পারলে তাকে কেউ মনে রাখে না। প্রজন্মান্তরে ধীরে ধীরে সে আড়ালে চলে যায়। ইদ-উল-ফিতরের চাঁদ দেখার সঙ্গেই সঙ্গেই কাজী নজরুল ইসলামকে আমাদের মনে পড়ে। ‘রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ইদ’ গান ছাড়া আমাদের ইদের আনন্দ পূর্ণ হয় না। বছর ঘুরে আমাদের মাঝে বিশ্ব শ্রমিক দিবস আসে। কাজী নজরুল ইসলামের ‘গাহি সাম্যের গান’ ছাড়া শ্রমজীবীদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারি না। প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আমাদের কানে বাজে সারাক্ষণ। আরও কত কী! এভাবেই বাংলাদেশের জাতীয় কবি মানুষের হৃদয়ে টিকে রবে আজীবন। শুধু কাজী নজরুল ইসলামই নন, প্রত্যেক সাহিত্যিককে যুগের চাহিদা পূরণ করে টিকতে হবে। ‘সাহিত্য সমাজের দর্পন’ একথা যদি কোনো সাহিত্যিকের কলমে প্রস্ফুটিত না হয় তাহলে তিনি কেবল সাময়িক বিনোদনের উৎস হবেন। বর্তমানে বাংলা সাহিত্যে যুগোপযোগী সৃষ্টির বড় সংকট বটে। বর্তমানে সাহিত্যের বৃহৎ অংশই আবেগে ভরা। মধ্যবিত্ত জীবনের নানা উপাখ্যান নিয়ে গণ্ডায় গণ্ডায় লেখা আসছে। যুগের চাহিদা অনুযায়ী সাহিত্য আসছে না। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে গতিশীল সাহিত্য রচনা যেন মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে। কিছু লেখকেরা যুগে যুগে জীবন্ত থাকবে এমন লেখা উপহার দেয়ার চেষ্টা করছেন। এতেও একটা পিছুটান থেকে যাচ্ছে তা স্পষ্ট দৃশ্যমান। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া একটা দেশের মধ্যে কোনোকিছুর প্রসার লাভ করা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। সাহিত্যের ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। সরকারিভাবে সাহিত্যের প্রতি যত্ন নেই। প্রতি বছর একটা বইমেলা আয়োজনের মধ্য দিয়েই প্রধান সাহিত্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘বাংলা একাডেমি’ দায়িত্বের সমাপ্তি টানছে। সাহিত্যেরও কঠিন সময় যেতে পারে, অন্ধকার নেমে আসতে পারে এটা সরকারিভাবে ভাবা আবশ্যক। সরকার মানে একটা দল বা গোষ্ঠী নয়। একটা প্রতিষ্ঠান, একটা অভিভাবক, সব সন্তানের সমান পরিচর্যাকারী। আমরা যেন এটা ভুলে গিয়ে একটা রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীকে সরকার ভাবতে বসেছি। অন্যায়ের প্রতিবাদ মানেই একটা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধাচরণ, সাহিত্যিকের কলমে অন্যায়ের প্রতিবাদী অক্ষর প্রসব হওয়া মানেই সে সরকারবিরোধী, দেশদ্রোহী। লেখকের সাথে সাযুজ্য খুঁজে লেখকের আদর্শকে কোনো একটা দলের দিকে ঠেলে দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি আমরা। কলমের নিব ভেঙে দিতে কিংবা লেখকের অগ্রযাত্রাকে ভণ্ডুল করতে ফন্দি আটছি আমরা পাঠকেরাই। সময়োপযোগী গঠনমূলক রচনা উপহার দিতেও লেখকেরা দ্বিধায় ভুগছেন। বিশেষ কোনো পক্ষ থেকে ব্যক্তিজীবনে চাপ আসুক এটা থেকে মুক্ত থাকতেই ‘প্লে ইটস সেফ’ পন্থা বেছে নিচ্ছেন। যেসব তরুণ উদীয়মান লেখকেরা বাংলা সাহিত্যের কর্ণধার হবেন, তাদের মধ্যেও পাঠক হারানোর ভয়ে চুপসে থাকেন কেউ কেউ। কারণ বাংলাদেশে লেখকের ভবিষ্যত লেখা থাকে পাঠকের সংখ্যার উপর। এমতাবস্থায় কোনো লেখকই নিজের জীবন ও ক্যারিয়ারের ন্যূনতম ক্ষতি মানতে চাইবে না। সাহিত্যের কিছু সৃষ্টি গতিশীল, এক যুগের না, সব যুগের। উপরে কাজী নজরুল ইসলামের ইদ বিষয়ক গান, শ্রমজীবীদের নিয়ে লেখা কবিতা ও প্রতিবাদী কণ্ঠের জালানিরূপ বিদ্রোহী কবিতার দৃষ্টান্ত দিয়েছি। বর্তমান সাহিত্যিকেরাও এমন সৃষ্টি উপহার দিতে পারবেন যদি তারা পৃষ্ঠপোষকতা পান। আমরা যদি তাদেরকে যথার্থ মূল্যায়ন করি, যদি একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত করে তাকে পর্যুদস্ত করতে চেষ্টা না করি। তবে তারা লিখতে উদ্বুদ্ধ হবেন। সময় ও পরিস্থিতির একনিষ্ঠ সমালোচক হতে পারবেন। সরকারের প্রথম ও প্রধান বিরোধী দল হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারবেন লেখকগোষ্ঠী। কবি আলিফ আহমাদ ‘কাঁচাবাজার অথবা সবজিবাজার’ নামে একটা কবিতা পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। কাঁচাবাজারে পণ্যের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে এই কবিতায় আগুনের সাথে তুলনা করা হয়েছে। যে অগ্নিকাণ্ড দেশের সব শ্রেণির মানুষ দেখলেও সরকার দেখছে না বলে উল্লেখ করেছেন। পাঠকের চোখে সরকার হয়ে গেছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল। ক্ষমতাসীন দলকে উল্লেখ করে মন্তব্য করতে দেখেছি। অন্যদিকে কবি রুদ্রাক্ষ রায়হান ‘কখনো যদি’ নামে একটি কবিতা লিখেছেন। কবিতাটির অংশবিশেষ হলো— “কখনো রোড এক্সিডেন্টের খবর শুনলে বুঝবে পুলিশের গাড়ি, ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দিয়েছে রাস্তার পাশে যদি পড়ে থাকে গলাকাটা লাশ নিশ্চিত থেকো ওই কাজ সরকারি ক্যাডাররা করেছে। একজন চূড়ান্ত কবি যে দেশ আর মানুষের জন্য কাঁদে সরকারি বুলেট ছাড়া- তার মৃত্যুর সহজ কোনো উপায় থাকে না।” ‘বিদ্রোহী’, ‘কাঁচাবাজার অথবা সবজিবাজার’ বা ‘কখনো যদি” এর মতো কবিতাগুলো সর্বযুগের। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই ধরনের কবিতাগুলো দুর্বল রাষ্টযন্ত্রের প্রতিপক্ষ। তা কেবল সামসময়িক নয়, সকল সময়ের। বুয়েটিয়ান আবরার ফাহাদরা কেবল এক যুগে জীবন দেয় না। যুগে যুগে খুন ঝরে তাদের। না বোঝার দরুন সাহিত্যকে একটি নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর মুখোমুখি করবেন না। লেখকের কলমে উঠে আসুক সমাজ। সাহিত্য হোক সমাজের দর্পন।


এই ক্যাটাগরির আরো খবর

চুয়াডাঙ্গা জেলার গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (রাত ২:৫৩)
  • ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১২ই সফর, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল)

পুরনো সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  

নামাযের সময়সূচি

    চুয়াডাঙ্গা,খুলনা,বাংলাদেশ
    মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ
    সূর্যোদয়ভোর ৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ
    যোহরদুপুর ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
    আছরবিকাল ৪:১৩ অপরাহ্ণ
    মাগরিবসন্ধ্যা ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
    এশা রাত ৮:০৩ অপরাহ্ণ

মোট ভিজিটর

Visits since 2020

Your IP: 3.235.105.97