শিরোনাম:

মাঠ প্রস্তুত, মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে একযোগে কাজ করব

চুয়াডাঙ্গা-১: ধানের শীষের পক্ষে জনসভায় শরীফুজ্জামান শরীফের আহ্বান, শহর ভর্তি ৩০ হাজার নেতা-কর্মী

চুয়াডাঙ্গা-১: ধানের শীষের পক্ষে জনসভায় শরীফুজ্জামান শরীফের আহ্বান, শহর ভর্তি ৩০ হাজার নেতা-কর্মী

আগামী ফেব্রুয়ারি-২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় শনিবার বিকেল অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির বিশাল জনসভায় লাখো নেতাকর্মী একত্রিত হয়ে দলীয় ঐক্য প্রদর্শন করেছেন। জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ সভাস্থল থেকে ঘোষণা করেন, “ধানের শীষের জন্য আমরা মাঠ রেডি রেখেছি। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা তার পক্ষে একসাথে কাজ করব।”

শরীফ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন। তিনি জনসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই—ধানের শীষকে জয়ী করা। মনোনয়ন যেই হোক, আমরা দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকব। ব্যক্তিগত স্বার্থ এখানে কোনো প্রাধান্য পাবে না।”

শনিবার দুপুরের পর থেকেই আলমডাঙ্গা পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতা-কর্মীরা উপস্থিত হতে শুরু করেন। উপজেলা পরিষদ চত্বরের এরশাদ মঞ্চ দ্রুত ভরে যায়। সংলগ্ন রাস্তাগুলোও নেতাকর্মীর সমাগমে ভর্তি হয়ে যায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত পুরো শহরের প্রধান রাস্তাগুলো জানজটমুক্ত ছিল না। থানা রোড, স্টেশন রোড, চারতলা মোড়সহ শহরের অন্যান্য প্রধান সড়ক লোকে ভরে যায়।

জনসভাস্থল ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজার হাজার নেতা-কর্মী হেঁটেই আসেন। অনেকেই ঢাক-ঢোল পিটিয়ে আনন্দ উদযাপন করেন। জনসাধারণ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে শহরকে উত্তেজনায় ভাসান, যেমন:
“শহীদ জিয়া অমর হোক, জিয়ার সৈনিক এক হও, এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ্য জিয়া ঘরে ঘরে, তারেক জিয়া বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশ।”

মো. শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, “একটি প্রায় ধ্বংসস্তুপ দলকে পুনর্গঠন করতে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, বিশেষ করে জনাব তারেক রহমান, নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন। ফ্যাসিস্টদের নিপীড়ন, রাজনৈতিক রোডম্যাপ এবং দলীয় দুঃসময়ে আমরা কেন্দ্রীয় নির্দেশনার সঙ্গে সব অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “মনোনয়ন নিয়ে আলাদা আলোচনা নয়। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য—ধানের শীষকে জয়ী করা। আমাদের জেলা বিএনপির প্রতিটি ইউনিট শক্তিশালী এবং আমরা তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে জনমানসে পৌঁছাতে সক্ষম। ইউনিয়ন কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে, কোনো পকেট কমিটি নেই। এই কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে কার্যকর নেতৃত্ব দিচ্ছে।”

শরীফ নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “একটি ভুল বা অবহেলা পুরো দলের ত্যাগকে বৃথা করতে পারে। দল সবকিছু জানে। আপনার আচরণে সাধারণ মানুষ যেন দলের দিকে আকৃষ্ট হয়, সেই দিকে নজর রাখতে হবে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্টদের দমন হয়েছিল। সেই মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মনোনয়ন যেই হোক, আমরা ধানের শীষের হয়ে চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২ আসনে মা নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশনায়ক তারেক রহমানকে জয়ী করতে কাজ করব। ব্যক্তিগত স্বার্থের কথা এখানে আসবে না। ১৭ বছরের মামলা, জেল এবং অত্যাচারের পর যারা বেঁচে আছেন, তাদের কথাও মনে রাখতে হবে। দলের প্রতি আনুগত্য ও শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে।”

জনসভায় আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সঞ্চালনা করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন:

জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সফিকুল ইসলাম পিটু,  খালিদ মাহমুদ মিল্টন, উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল হক রোকন, পৌর সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান ওল্টু, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এম শাহজাহান মুকুল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আবু জাফর মণ্টু, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এম. জেনারেল ইসলাম, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফ উর নাহার রিনা, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন,  সদস্যসচিব তোবারক হোসেন,  জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুর রশীদ ঝণ্টু, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলু, জেলা জাসাস-এর সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মোমিনুর রহমান মোমিন, জেলা আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাড. আ স ম আব্দুর রউফ, জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. মারুফ সারোয়ার বাবু, জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা আনোয়ার হোসেন

শহরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার সকল ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় ৩০,০০০ নেতা-কর্মী জনসভায় অংশ নেন।

জনসভায় উপস্থিত সাধারণ মানুষ, ছাত্র-ছাত্রী, নারী ও বৃদ্ধরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্তিশালী উপস্থিতি অনুভব করতে পারছেন। একজন স্থানীয় শিক্ষার্থী বলেন, “আজকের জনসভা আমাদের দেখিয়েছে যে দল এখনও শক্তিশালী এবং তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা জনগণের পাশে।”

একজন বৃদ্ধ বলেন, “ধানের শীষ প্রতীকের জন্য এখানে এত বিশাল সমাবেশ আগে কখনো হয়নি। এটা প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক চেতনা এখনো জাগ্রত।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, আলমডাঙ্গায় এত বিশাল জনসমাবেশ দলের সংগঠনের শক্তি, তৃণমূলের উপস্থিতি এবং আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের আগে জনমত তৈরি করার কার্যকর পদ্ধতির নিদর্শন। জনসভায় স্লোগান, ঢাক-ঢোল, এবং বিশাল জনসমাগম দেখিয়েছে দলীয় ঐক্য ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, “শরীফুজ্জামান শরীফের বক্তব্য এবং জনসমাবেশ থেকে বোঝা যাচ্ছে, চুয়াডাঙ্গার জেলা বিএনপি তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী এবং তারা মনোনয়ন যাই হোক, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এটি আগামী নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক ইঙ্গিতও দেয়।”

জনসভা আয়োজনে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে রাস্তায় যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং জনসভাস্থল নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা করা হয়। তবে জনসাধারণের উপস্থিতি এত বেশি ছিল যে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রায় পুরো সময় জনসমুদ্রের ভেতর আটকে যায়।

শনিবারের জনসভা চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইভেন্ট। এখানে শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য, নেতা-কর্মীদের উৎসাহ, বিশাল জনসমাগম এবং প্রাচীন সংগঠনকে পুনর্জাগরণের দৃঢ় প্রতিফলন দেখা গেছে। জনসভা প্রমাণ করেছে যে, দলীয় ঐক্য, তৃণমূলের শক্তি এবং নেতাদের নেতৃত্ব আগামী জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।

স্মার্ট ল্যাপটপ ও পিসি ক্রয়ের পূর্ণাঙ্গ গাইড: বাজেটের মধ্যেই সেরা পারফরম্যান্স নিশ্চিত করবেন যেভাবে

চুয়াডাঙ্গা-১: ধানের শীষের পক্ষে জনসভায় শরীফুজ্জামান শরীফের আহ্বান, শহর ভর্তি ৩০ হাজার নেতা-কর্মী

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই যুগে সঠিক ডিভাইসে বিনিয়োগ করাটা বেশ বুদ্ধিমত্তার কাজ। বর্তমান বাজারে ডিভাইসের আধিক্য থাকলেও, আপনার প্রয়োজন এবং বাজেট অনুযায়ী সঠিক পণ্যটি খুঁজে পাওয়া চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তাই ক্রেতাদের সুবিধার্থে আমরা ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কেনার একটি বিস্তারিত গাইডলাইন তুলে ধরছি।

১. বাজেট ও প্রসেসর নির্বাচন

ল্যাপটপ কেনার শুরুতে আপনার মূল ফোকাস হওয়া উচিত প্রসেসরের ওপর। যারা হালকা অফিস কাজ বা পড়াশোনার জন্য ল্যাপটপ খুঁজছেন, তাদের জন্য Core i3 laptop খুবই সাশ্রয়ী হতে পারে। ফ্রিল্যান্সিং বা মিড-রেঞ্জ কাজের জন্য Core i5 laptop বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরা হয়। তবে প্রফেশনাল লেভেলের কাজের জন্য সর্বোচ্চ গতি চাইলে আপনাকে Core i7 laptop -ই বেছে নিতে হবে।

২. সেরা ল্যাপটপ ব্র্যান্ডসমূহ

বাংলাদেশের বাজারে নির্ভরযোগ্যতার শীর্ষে রয়েছে লেনোভো, এইচপি এবং আসুস।

  • Lenovo: এই ব্র্যান্ডটি তাদের বিল্ড কোয়ালিটির জন্য বিখ্যাত। যারা টেকসই ল্যাপটপ খুঁজছেন তারা Lenovo laptop দেখে নিতে পারেন। বিশেষ করে নিয়মিত ব্যবহারের জন্য Lenovo IdeaPad দারুণ একটি চয়েস।
  • Asus: স্টাইল এবং আধুনিক ফিচারের জন্য Asus laptop সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
  • HP: অফিসিয়াল এবং করপোরেট কাজের জন্য HP laptop সবসময়ই ভরসাযোগ্য।

৩. গেমিং ও হাই-পারফরম্যান্স ল্যাপটপ

গেমিংয়ের দুনিয়ায় যারা নতুন প্রবেশ করছেন তারা ল্যাপটপের জিপিইউ এবং রিফ্রেশ রেটকে বেশি গুরুত্ব দেন। বর্তমানে Gaming laptop বেশ স্থিতিশীল পর্যায়ে আছে। বিশেষ করে বাজেটের মধ্যে পাওয়ারহাউজ পারফরম্যান্সের জন্য Lenovo LOQ মডেলটি এখন বাজারের হট-সেলিং প্রোডাক্ট।

৪. আধুনিক অফিস সেটআপ: ডেস্কটপ ও অল-ইন-ওয়ান

ডেস্কটপ পিসি এখনো অনেক ক্ষেত্রে ল্যাপটপের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং আপগ্রেডেবল। করপোরেট সলিউশনের জন্য Dell desktop এবং HP desktop অনেক বেশি জনপ্রিয়। কিন্তু আপনি যদি টেবিলের জায়গা বাঁচাতে চান এবং একটি স্লিক লুক পেতে চান, তবে HP All-in-One PC আপনার জন্য সেরা সমাধান হতে পারে।

কেন ASES Tech আপনার প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত?

অনেকেই সাশ্রয়ী হতে গিয়ে Budget laptop খুঁজে ভুল জায়গায় টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু ASES Tech সরাসরি ইমপোর্টার হওয়ায় তারা প্রোডাক্টের শতভাগ জেনুইন হওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। সরাসরি শোরুম থেকে দেখে অথবা অনলাইন থেকে সব লেটেস্ট কালেকশন যাচাই করে আপনি আপনার পছন্দের ডিভাইসটি সংগ্রহ করতে পারেন।

আলমডাঙ্গায় একসাথে ৩ সন্তানের জন্ম

চুয়াডাঙ্গা-১: ধানের শীষের পক্ষে জনসভায় শরীফুজ্জামান শরীফের আহ্বান, শহর ভর্তি ৩০ হাজার নেতা-কর্মী

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বকশীপুর গ্রামে বিরল এক আনন্দঘন ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাহাবুল ইসলামের মেয়ে মারুফা খাতুন একসাথে তিনটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন—এক পুত্র ও দুই কন্যা। আজ বিকেলে আলমডাঙ্গা শহরের ফাতেমা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এই তিন নবজাতকের জন্ম হয়।

চিকিৎসক দল জানায়, মা ও নবজাতকরা বর্তমানে সুস্থ আছেন। তবে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে যেন জন্ম-পরবর্তী সময়ে কোনো জটিলতা দেখা না দেয়। তিন সন্তানের একসাথে জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা পরিবারটির খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় করছেন ক্লিনিক প্রাঙ্গণে।

জানা যায়, দুই বছর আগে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার মিন্টু শেখের সাথে মারুফার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা সুখে-শান্তিতে সংসার করছিলেন। আজকের এই আনন্দঘন মুহূর্তে তিন সন্তানের জনক মিন্টু শেখ বলেন, “আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার স্ত্রী ও সন্তানরা ভালো আছে। আমি সবার কাছে দোয়া চাই যেন আল্লাহ আমার সন্তানদের সুস্থ রাখেন এবং নেক আমলদার বানান।”

গ্রামজুড়ে এখন আলোচনার বিষয় একটাই—একসাথে তিন সন্তানের আগমন। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা এই নবজন্মকে আল্লাহর বিশেষ আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন। অনেকে বলেন, এটি একদিকে যেমন এক অসাধারণ খুশির খবর, তেমনি ভবিষ্যতে শিশুদের লালন-পালনে সমাজের সহযোগিতাও প্রয়োজন হবে।

সবার মুখে এখন একটাই কথা—“আল্লাহ যেন মারুফা ও তার সন্তানদের সুস্থ, সুন্দর ও বরকতময় জীবন দান করেন।”

ফিলিস্তিন ইসরাইলি

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি হামলার দুই বছরে নিহত ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে

চুয়াডাঙ্গা-১: ধানের শীষের পক্ষে জনসভায় শরীফুজ্জামান শরীফের আহ্বান, শহর ভর্তি ৩০ হাজার নেতা-কর্মী

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের দুই বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক আক্রমণের জবাবে শুরু হওয়া ইসরাইলের পাল্টা অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। নারী ও শিশুদের বড় অংশ এই নিহতদের মধ্যে রয়েছে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর নির্বিচার হামলায় গাজা আজ পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে, যেখানে খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয়ের মারাত্মক সংকটে দিন কাটছে বেঁচে থাকা মানুষদের।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক অভিযানের পরই ইসরাইল গাজা উপত্যকায় সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করে। ‘হামাস নির্মূলের অভিযান’ নামে টানা দুই বছর ধরে চলে ভয়াবহ বোমাবর্ষণ, অবরোধ ও হত্যাযজ্ঞ। এতে গাজার অবকাঠামো, হাসপাতাল, স্কুল, এমনকি জাতিসংঘ পরিচালিত আশ্রয়কেন্দ্রও ধ্বংস হয়ে গেছে। মানবিক সহায়তা কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে, যার ফলে কয়েক লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে ভুগছে।

চাথাম হাউসের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সানাম ভাকিল বলেন, “দুই বছর ধরে গাজায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। কিন্তু তারা আসলে কী অর্জন করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। যদিও হামাসসহ ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক কিছুটা দুর্বল হয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিকভাবে তেল আবিব অভূতপূর্বভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।”

অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদনে গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে ‘জাতিগত নিধন’ (Genocide) হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তাদের জীবিকা ও অস্তিত্বের পরিবেশ ধ্বংস করেছে—যা জাতিগত নিধনের সংজ্ঞার সঙ্গে মিলে যায়।

সানাম ভাকিল আরও বলেন, “গাজায় গণহত্যার চূড়ান্ত রূপ ফুটে উঠেছে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডে। তারা এমন জীবনযাত্রা চাপিয়ে দিয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি।”

এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সোমবার (৬ অক্টোবর) ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, পুতিন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনগত কাঠামোর ভিত্তিতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে রাশিয়ার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

অন্যদিকে, প্রায় এক সপ্তাহ পর ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ বন্ধে ২০ দফা শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করেন। প্রস্তাবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজার পুনর্গঠন, এবং আটক ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

হামাসের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়, যা বিশ্বব্যাপী স্বাগত পেয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনও এই পরিকল্পনার প্রশংসা করে বলেছেন, “যেকোনো মানবিক সমাধানই গাজায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।”

দুই বছর পরও গাজার আকাশে এখনও যুদ্ধবিমান উড়ছে, ধ্বংসস্তূপে পড়ে আছে হাজারো দেহ, এবং বিশ্ববিবেকের কাছে প্রশ্ন জাগছে—ফিলিস্তিনের এই অবরুদ্ধ ভূমিতে মানবতার মুক্তি কবে আসবে?